Daily BD Times — বাংলার সংবাদ

  • পিঁপড়া যেভাবে মিষ্টির খোঁজ পায়

    পিঁপড়া যেভাবে মিষ্টির খোঁজ পায়

    ফিচার

    চা বানানোর সময় সামান্য চিনির দানা নিচে পড়ে যাওয়া কিংবা মিষ্টির গুঁড়ো টেবিলের কোণে জমতে না জমতেই কোথা থেকে যেন হাজির হয় সারি সারি পিঁপড়ার দল। কোনো জ্যামিতিক নিখুঁত মাপে তারা একদম পৌছে যায় নির্দিষ্ট সেই খাবারের উৎসে। কিন্তু মেঝের অদৃশ্য সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খাবারের কণা পিঁপড়ারা কীভাবে এত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে খুঁজে পায়—তা নিয়ে অনেকের মনেই দীর্ঘদিনের কৌতুহল রয়েছে।

    গবেষকদের মতে, পিঁপড়ারা তাদের মাথায় থাকা বিশেষ অ্যান্টেনা বা শুঁড়ের সাহায্যে মেঝের স্পর্শ ও বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক পরিবর্তন অনুভব করতে পারে। মানুষের অগোচরে থাকা এসব ঘ্রাণ ও রাসায়নিক সংকেত তারা সহজেই ধরে ফেলে।

    অসাধারণ ঘ্রাণশক্তি ও জিনগত ক্ষমতা

    রান্নাঘরে যে পিঁপড়ার আগমন ঘটে, তা কোনো একক প্রজাতির নয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় সব প্রজাতির পিঁপড়াই খাদ্য অনুসন্ধানে নির্দিষ্ট কিছু ধারাবাহিক ধাপ অনুসরণ করে।

    ভারতে পরিচালিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে ৮০০-র বেশি প্রজাতির ও উপপ্রজাতির পিঁপড়া রয়েছে, যার মধ্যে মানববসতিতে অন্তত ৩৪ প্রজাতির পিঁপড়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

    পিঁপড়ার খাদ্য অনুসন্ধানের মূল কারিগর তাদের ‘অ্যান্টেনা’। গবেষণায় দেখা গেছে, পিঁপড়ার জিনোমে বিপুল পরিমাণ গন্ধ-সংবেদনশীল জিন রয়েছে।

    ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা সায়েন্স জার্নাল পিএলওএস জেনেটিক্স-এ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, অন্যান্য পোকামাকড়ের তুলনায় পিঁপড়ার শরীরে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ঘ্রাণগ্রাহক বা স্মেল রিসেপ্টর থাকে। মানুষের কাছে যা সাধারণ একটি রান্নাঘর, পিঁপড়ার কাছে তা অগণিত রাসায়নিক তথ্যের এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র।

    বিশেষ ‘টেস্ট রিসেপ্টর’ ও সার্চ ইঞ্জিন

    ২০২১ সালে ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত ফায়ার অ্যান্টের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় জানা যায়, পিঁপড়ার খাবারের তালিকায় থাকা মিষ্টি উপাদানের সঙ্গে তাদের অ্যান্টেনায় থাকা স্বাদগ্রাহক (টেস্ট রিসেপ্টর) এবং সামনের পায়ের এক অনন্য সম্পর্ক রয়েছে।

    পিঁপড়াদের কলোনিতে টিকে থাকতে এবং শক্তি জোগাতে সুগার বা মিষ্টিজাতীয় উপাদানের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু মিষ্টির গন্ধ বাতাসে খুব বেশি ছড়ায় না। এ জন্য পিঁপড়ার শরীরে থাকা বিশেষ অ্যাটোমিক ব্যবস্থা কাজ শুরু করে। তাদের শুঁড়ে থাকা টেস্ট রিসেপ্টর খাবারে স্পর্শ করা মাত্রই চিনির ক্ষুদ্রতম কণাকেও সনাক্ত করতে পারে। বিজ্ঞানীরা পিঁপড়ার এই টেস্ট রিসেপ্টরকে একটি প্রাকৃতিক ‘সার্চ ইঞ্জিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ‘জিপিএস’ ও ফেরোমোন সংকেত

    খাবারের খোঁজ মেলার পর সেখানে কীভাবে পিঁপড়ার পুরো কলোনি হাজির হয়—তার উত্তর লুকিয়ে আছে ‘ফেরোমোন’ নামক একধরনের রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে।

    মার্কিন কৃষি গবেষণা পরিসেবা এবং ২০০৯ সালে ফিজিওলজিকাল অনটোলজি জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যখন কোনো দূরদর্শী স্কাউট পিঁপড়া খাবারের সন্ধান পায়, তখন সে কলোনিতে ফিরে যাওয়ার সময় মেঝেতে একটি রাসায়নিক পথের রেখা বা ‘ট্রেইল’ এঁকে দিয়ে যায়।

    কীটতত্ত্ববিদদের মতে, এই ফেরোমোন অনেকটা আধুনিক যুগের ‘জিপিএস’ বা গুগল ম্যাপসের মতো কাজ করে। রাসায়নিকের এই নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করেই সারি বেঁধে অন্যান্য পিঁপড়ারা সঠিক জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়।

    গোয়ার ‘ফরেস্ট ইকোলজি রিসার্চ সেন্টার’-এর বিজ্ঞানীরা জানান, পিঁপড়ার সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্ভর করে এই রাসায়নিক সংকেত ও স্পর্শের ওপর। অ্যান্টেনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পিঁপড়ার পক্ষে বেঁচে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। মূলত অসাধারণ ঘ্রাণভিত্তিক জিনগত বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সার্চ ইঞ্জিনসম শুঁড় এবং নিখুঁত রাসায়নিক জিপিএস ব্যবস্থার যৌথ সক্ষমতা ব্যবহার করেই পিঁপড়ারা ঘরের যেকোনো কোণে থাকা মিষ্টির কণা সহজে শনাক্ত করতে পারে।

  • কক্ষপথে ক্ষয় হচ্ছে নাসার টেলিস্কোপ

    কক্ষপথে ক্ষয় হচ্ছে নাসার টেলিস্কোপ

    গামা-রে বার্স্টসহ (জিআরবি) মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত নাসার বিখ্যাত মহাকাশ টেলিস্কোপ ‘নীল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ (সুইফট) কক্ষপথ ক্ষয়ের (অরবিটাল ডিকে) প্রভাবে নিচে নামছে। সাম্প্রতিক তীব্র সৌর কার্যকলাপের কারণে পৃথিবীর ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডল সামান্য প্রসারিত হয়েছে। ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণের কারণে টেলিস্কোপটি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুতগতিতে নিচু কক্ষপথে নেমে আসছে। নাসার বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের শেষার্ধের মধ্যে এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    অর্ধশত মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত মূল্যবান এই বৈজ্ঞানিক অবজারভেটরিটিকে রক্ষা করতে এবং এর গবেষণা কার্যক্রম সচল রাখতে নাসা প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) ডলারের একটি বিশেষ কক্ষপথ-উন্নয়ন (অরবিট বুস্ট) মিশন শুরু করেছে। এই মিশনের মূল লক্ষ্য টেলিস্কোপটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়ে আরো উচ্চতর ও নিরাপদ কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া। এই জটিল মহাকাশ মিশনটি পরিচালনার জন্য গত ৩ জুলাই প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিসের তৈরি বিশেষ মহাকাশযান ‘লিংক’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি ধাপে ধাপে সুইফটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অত্যাধুনিক এই মহাকাশযানটি তিনটি শক্তিশালী রোবোটিক হাত দ্বারা সুসজ্জিত।

    নাসার মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিংক মহাকাশযানটি প্রায় এক মাসের মধ্যে সুইফট টেলিস্কোপের কাছাকাছি কক্ষপথে গিয়ে পৌঁছাবে। তবে পৌঁছানোর পরই এটি সুইফটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে না। প্রথমে মহাকাশযানটির নিজস্ব সৌর প্যানেল ও অভ্যন্তরীণ সিস্টেমগুলো নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হবে। এরপর শুরু হবে টেলিস্কোপটির সঙ্গে নিরাপদে সংযুক্ত হওয়ার (রেন্দেভু অ্যান্ড ক্যাপচার) জটিল ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। পরবর্তী কয়েক মাসে সুইফটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, অবস্থান ও ঘূর্ণন বিশ্লেষণ এবং যান্ত্রিক বাহুর মাধ্যমে নিরাপদে সেটিকে ক্যাপচার করার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরপর মহাকাশযানটি নিয়ন্ত্রিত থ্রাস্ট ব্যবহার করে সুইফটের কক্ষপথ ধীরে ধীরে উঁচু করবে।২০০৪ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে দুই দশক ধরে মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও রহস্যময় বিস্ফোরণ তথা ‘গামা-রে বার্স্ট’ পর্যবেক্ষণে অনন্য ভূমিকা রাখছে সুইফট। নাসা জানিয়েছে, টেলিস্কোপটি যদি বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করে, তবে এর বেশির ভাগ অংশই ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তবে বিজ্ঞানীদের মূল উদ্বেগ টেলিস্কোপটির ভবিষ্যৎ বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম ও গবেষণা সক্ষমতা বজায় রাখা। সুইফটের কার্যক্রম আরো কয়েক বছর সচল রাখার লক্ষ্যেই এই রোবোটিক কক্ষপথ-উন্নয়ন মিশন পরিচালনা করছে নাসা।

  • জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এল ৩৫ হাজার কোটি টাকা

    জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এল ৩৫ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের গত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ২১০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১১ পয়সা ধরে)। এক বছরের ব্যবধানে এই প্রবাহ বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৮৫ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ২৪৭ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এর আগে বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮২ মিলিয়ন ডলার।

    সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ মিলিয়ন ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের ৩ হাজার ৩২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৫২৬ মিলিয়ন ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনে হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সম্প্রসারিত সুযোগকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  • চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোরের চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সাধারণ ও বিএম শাখা মিলিয়ে উপজেলার অন্যতম বড় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।

    ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি পরে এমপিওভুক্ত হয়। চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সর্বশেষ প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।

    এর আগে ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি আর নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অর্ধেক বেতনে ছুটিতে রয়েছেন।

    চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বাবুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনিও গুরুতর অসুস্থ। নিজের খরচে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক রেখে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ফলে চলাফেরা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজেও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে তাঁকে।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সরকারিকরণের পর এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ নেই। অন্যদিকে সরকার থেকেও নতুন শিক্ষক দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি অফিস সহকারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদও শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে সকালের সমাবেশে উপস্থিত ছিল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শৃঙ্খলা ও তদারকির ঘাটতিও চোখে পড়ে।

    সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ও প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু হলেও অনেক শিক্ষার্থী ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করে। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তারা দিনের বাকি সময় বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাটায়। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে নিয়মিত ক্লাসও হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

    বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।

    এ বিষয়ে প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক নেতৃত্ব কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকও অসুস্থ থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    তারা বলেন, চৌগাছার অন্যতম প্রাচীন ও সুনামধন্য এই সরকারি বিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষা প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

    তাদের মতে, স্থায়ী নিয়োগে সময় লাগলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান স্বাভাবিক হবে। শিক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমি শুধু দায়িত্বের চেয়ার পেয়েছি। প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব বুঝে পাইনি। এমনকি অফিসের আলমারির চাবিও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

    সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক থাকতেই আমি অসুস্থ হয়েছি। এরপর থেকেই আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের কোনো কিছুই আমার কাছে নেই। তাছাড়া বিদ্যালয়ের অফিস বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রধান শিক্ষকের।”

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস ও শ্রেণি কার্যক্রম কিছুটা এলোমেলো আছে। বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে কবে প্রধান শিক্ষক পাওয়া যাবে, তা এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

  • বায়ুদূষণে ক্ষয়, হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিসৌধ

    বায়ুদূষণে ক্ষয়, হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিসৌধ

    চারশত পঞ্চান্ন বছরের এক ধ্রুপদী মহাকাব্য, যে প্রেমের স্থাপত্য রচনা করা করেছিলেন এক প্রেমময়ী সম্রাজ্ঞী। তবে সেই অমর কীর্তি কি আজ ইতিহাসের পাতা ছেড়ে মিশে যাচ্ছে দিল্লির বিষাক্ত বাতাসে? বলছি মোগল সম্রাট হুমায়ুনের ঐতিহাসিক সমাধিসৌধের কথা।

    তাজমহল যদি হয় স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসার অমর নিশান, তবে দিল্লিতে দাঁড়িয়ে থাকা এই সমাধিসৌধটি হলো স্বামীর প্রতি স্ত্রীর এক গভীর অনুরাগের চিহ্ন। সম্রাজ্ঞী বেগা বেগম সাড়ে চারশত বছর আগে লাল বেলেপাথর আর শুভ্র মার্বেল পাথরে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ভারত উপমহাদেশের প্রথম বিশাল বাগান-সমাধিসৌধ। অথচ কালের পরিক্রমায় সেই ঐতিহাসিক বিস্ময় আজ নিভৃত কান্নায় বুক ভাসাচ্ছে। দিল্লির বাতাস এখন আর নিছক বাতাস নেই, তা যেন রূপ নিয়েছে এক অদৃশ্য এসিডে।

    আইআইটি-রুরকি এবং আইআইটি-কানপুরের সাম্প্রতিক এক যৌথ গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এক নির্মম সত্য। দূষণের বিষাক্ত থাবায় ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ঐতিহ্যের এই অমূল্য নিদর্শন। গবেষণার তথ্য বলছে, বাতাসে ভেসে থাকা সালফার ডাই-অক্সাইড, ধূলিকণা আর আর্দ্রতার সাথে বিষাক্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করছে জিপসাম। আর সেই জিপসামের সাথে যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ইটভাটার কালি আর ধাতব কণা মিলে এই লাল পাথরের ওপর তৈরি করেছে এক ভয়ংকর কুচকুচে কালো আস্তরণ।

    যে অংশগুলো বৃষ্টির সরাসরি স্পর্শ পায় না, সেখানে এই বিষাক্ত আস্তরণ জমেছে সবচেয়ে পুরু হয়ে। এটি কেবল বাহ্যিক কোনো দাগ নয়; এই ডাইনি আস্তরণ ভেতর থেকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে চার শতকের প্রাচীন বেলেপাথরকে, যা স্মৃতিস্তম্ভটিকে ঠেলে দিচ্ছে চিরতরে মুছে যাওয়ার মুখে।

    তাজমহলকে বাঁচাতে আগ্রায় ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চলাচলে কত বিধিনিষেধ, কত শত কঠোর প্রহর! অথচ যার অলঙ্করণ আর জ্যামিতিক নকশাকে অনুকরণ করে তৈরি হয়েছিল পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য তাজমহল, সেই হুমায়ুনের সমাধিসৌধ ক্ষয়ের পথে দিল্লির বিষাক্ত ধোঁয়াশার রাজত্বে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন আর সময়মতো বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণের ছোঁয়া না পেলে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই ভালোবাসার স্মৃতি হয়তো অকালেই হারিয়ে যাবে ইতিহাসের নিকষ কালো অন্ধকারে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাঁকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, “বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

  • ৩০৬ বছরের বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন নাথান

    ৩০৬ বছরের বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন নাথান

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক তরুণ প্রকৌশল শিক্ষক বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন। ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একটি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। পিপল ম্যাগাজিনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (জিডব্লিউআর) অনুযায়ী, নাথান থমাস ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে মিয়ামি ডেড কলেজে প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপকের স্বীকৃতি পান।
    এর আগে এই রেকর্ডটি টানা ৩০৬ বছর ধরে ধরে রেখেছিলেন কলিন ম্যাকলরিন। তিনি ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।

    নাথান থমাস বর্তমানে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক আলিয়া সাবুরের চেয়েও ১৬ দিন কম বয়সে অধ্যাপক হয়েছেন। আলিয়া সাবুর ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে অধ্যাপক হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে নাথান থমাস মিয়ামি ডেড কলেজে ‘কপ ২২৭০: সি ফর ইঞ্জিনিয়ার্স’ কোর্স পড়ানো শুরু করেন।

    মজার বিষয় হলো, তিনি যেসব শিক্ষার্থীকে পড়াতেন, তাদের অনেকেই ছিলেন তার সমবয়সী। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাথান বলেন, শ্রেণিকক্ষে সবাই একই উদ্দেশ্যে আসে- শেখার জন্য। সেখানে বয়স খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

    তিনি বলেন, আমি শুধু আমার কাজটি ভালোভাবে করার চেষ্টা করি এবং যতটা সম্ভব শিক্ষার্থীদের সাহায্য করি। কেউ যদি শেখার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    একজন যোগ্য শিক্ষক হিসেবে নাথান তার শিক্ষার্থীদের জটিল কম্পিউটিং ও প্রোগ্রামিং বিষয় পড়ান। নাথানের শিক্ষাজীবনও ছিল ব্যতিক্রমী। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি মিয়ামি ডেড কলেজে ডুয়াল এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। পরে ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত হন।
    পরবর্তী চার বছরের মধ্যে তিনি বৈদ্যুতিক প্রকৌশলে (ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর- উভয় ডিগ্রিই সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

    প্রকৌশলী পরিবারের সন্তান নাথান জানান, ছোটবেলা থেকেই গণিত তার কাছে সহজ মনে হতো। তিনি বলেন, আমার মা কঠিন বিষয়গুলো খুব সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে পারতেন। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু পরে উপলব্ধি করেছি, সেটিই আমার শেখার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

    শিক্ষকতা সম্পর্কে নাথান বলেন, তার সবচেয়ে ভালো লাগে সেই মুহূর্তটি, যখন কোনো শিক্ষার্থী প্রথমে অসম্ভব মনে হওয়া একটি বিষয় হঠাৎ করেই বুঝে ফেলে। তার মতে, সেই অনুভূতিই শিক্ষকতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

  • স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যের কোনো অভাব নেই, তবে সেই তথ্যের কতটা সত্য আর কতটা গুজব, তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যগুলো নারীদের মধ্যে অহেতুক ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। স্তন ক্যানসারের মতো সংবেদনশীল বিষয়েও এমন অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে, যা বছরের পর বছর ধরে নারীরা বিশ্বাস করে আসছেন।

    সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ড. ক্রিস্টিন লাই স্তন ক্যানসার নিয়ে এমন কিছু বহুল প্রচলিত মিথ বা ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভয় কখনো ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে না, বরং সঠিক ও তথ্যভিত্তিক জ্ঞানই পারে সচেতনতা বাড়াতে। ড. লাইয়ের মতে, ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যের ওপর অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের ওপর নির্ভর করা উচিত।

    নিচে স্তন ক্যানসার নিয়ে ড. ক্রিস্টিন লাইয়ের আলোচিত ৮টি ভুল ধারণা ও সেগুলোর প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলো:

    ১. অন্তর্বাস বা ব্রা পরলে কি ক্যানসার হয়?

    অনেক নারীই মনে করেন দীর্ঘক্ষণ ব্রা পরে থাকা, বিশেষ করে আন্ডারওয়্যার ব্রা বা ব্রা পরে ঘুমানো ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু ড. লাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বাসের সাথে ক্যানসারের কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই। ক্যানসার অস্ট্রেলিয়ার তালিকাতেও এটিকে ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

    ২. কফি পান ও স্তনের ব্যথা

    অনেকে মনে করেন কফি খেলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ক্যাফেইন পানের ফলে কিছু নারীর স্তন কিছুটা নরম বা পিণ্ডাকৃতির মনে হতে পারে, তবে এটি মূলত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়, ক্যানসারের জন্য নয়। তাই ক্যানসারের ভয়ে প্রিয় পানীয়টি ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

    ৩. চিনি কি ক্যানসারের খাবার?

    ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি বড় মিথ হলো, চিনি ক্যানসারকে পুষ্ট করে। ড. লাইয়ের মতে, আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ গ্লুকোজ বা চিনির ওপর নির্ভর করে চলে। কেবল চিনি বর্জন করলেই ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা সম্ভব নয়, কারণ এটি সুস্থ কোষগুলোকেও প্রভাবিত করবে। কার্বোহাইড্রেট বা চিনি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

    ৪. সয়াবিন জাতীয় খাবারের প্রভাব

    সয়াবিন, টফু বা সয়া মিল্ক স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলছে। সয়াবিনে থাকা উদ্ভিজ্জ ইস্ট্রোজেন শরীরের প্রাকৃতিক ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে না এবং কিছু গবেষণায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হিসেবেও দেখা গেছে।

    ৫. স্তনের আকার ও ক্যানসার ঝুঁকি

    অনেকে বিশ্বাস করেন স্তনের আকার বড় হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ড. লাই জানিয়েছেন, স্তন ছোট বা বড় হওয়ার ওপর ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ভর করে না। এটি একটি শারীরিক গঠনগত বিষয় মাত্র।

    ৬. আঘাত বা ক্ষত থেকে ক্যানসার

    হঠাৎ কোথাও পড়ে যাওয়া বা গাড়ির সিটবেল্ট থেকে স্তনে কোনো আঘাত পেলে অনেকেই ক্যানসারের ভয় পান। ড. লাই জানান, আঘাতের ফলে স্তনে সাময়িকভাবে কোনো পিণ্ড বা দলা তৈরি হতে পারে যা নিরাময়যোগ্য, তবে এটি ক্যানসারে রূপান্তর হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।

    ৭. গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ

    ১৬টি দেশের প্রায় ৮৩ হাজার নারীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভপাতের সাথে স্তন ক্যানসারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যা কেবল মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে।

    ৮. আইভিএফ বা প্রজনন চিকিৎসা

    অনেকের ধারণা আইভিএফ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হরমোনগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ড. লাইয়ের মতে, এই চিকিৎসার সাথে ক্যানসারের ঝুঁকির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি, তাই যারা আইভিএফ করার কথা ভাবছেন তাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

    শেষ কথা

    ড. ক্রিস্টিন লাইয়ের ভাষায়, ‘আমার লক্ষ্য হলো নারীদের মন থেকে ভয় দূর করা, ভয় বাড়িয়ে দেওয়া নয়’। স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত চেকআপ করানোই সুস্থ থাকার প্রধান উপায়। ভুল তথ্যের মায়াজাল ছিন্ন করে সঠিক জ্ঞানে সচেতন হওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

  • আর্সেনাল গুঞ্জনের মধ্যে রিয়ালের অনুশীলনে ফিরলেন ভিনি

    আর্সেনাল গুঞ্জনের মধ্যে রিয়ালের অনুশীলনে ফিরলেন ভিনি

    আর্সেনালে দলবদলের গুঞ্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মাঝেই রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনে ফিরেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বিশ্বকাপ মিশন শেষে ছুটি কাটিয়ে গতকাল স্থানীয় সময় সকালে মাদ্রিদের ভালদেবেবাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নতুন কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে দলের সঙ্গে প্রথম অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছেন তিনি।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিনিকে দলে ভেড়াতে ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা। গানারদের এই কোচ ভিনিকে পুরো আর্সেনাল প্রজেক্টের কেন্দ্রবিন্দু বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ক্লাবটিকে ইউরোপের পরবর্তী আধিপত্যশীল দল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রস্তুত করেছেন। রিয়ালের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান এই তারকার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র ১২ মাস বাকি রয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা ব্যক্তিগত শর্তে সমঝোতা হয়নি।

    রিয়াল মাদ্রিদে ভিনির ফেরার বিষয়ে ক্লাবটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পর ভিনি জুনিয়র এবং ব্রাহিম দিয়াজ রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে এসেছে। কোচের নতুন অধীনে প্রথম প্রশিক্ষণ সেশন সম্পন্ন করার আগে দুই খেলোয়াড় আজ সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভালদেবেবাস হাসপাতালে উপস্থিত হন।’

    দ্বিতীয় দফায় অল হোয়াইটদের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়া হোসে মরিনহো তার এই তারকা ফরোয়ার্ডকে হারাতে নারাজ। লস ব্লাঙ্কোস শিবিরও তাদের আক্রমণভাগের অন্যতম এই অস্ত্রকে ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। যদিও চুক্তি নবায়ন নিয়ে এখনো ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।

    তবে আর্সেনালের গভীর আগ্রহ এবং ভিনির বর্তমান পরিস্থিতি গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডোকে বেশ রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। প্রি-সিজনের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মরিনহোর অধীনে ভিনির পারফরম্যান্স এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচনার বিষয়।

  • খুনোখুনি আমার পছন্দ না তাই ইরানের সঙ্গে চুক্তি চাই: ট্রাম্প

    খুনোখুনি আমার পছন্দ না তাই ইরানের সঙ্গে চুক্তি চাই: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তির মাধ্যমেই সংকট সমাধান করতে চান তিনি। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।

    পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং আসন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান যে তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না, বরং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে যুদ্ধ হলে তা ইরানের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং খোদ ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার পর এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতির সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়গুলোকে যুক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি, তবে প্রয়োজন সাপেক্ষে যেকোনো সময় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও যে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, সে কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হরমোজ প্রণালির ওপর চলা নিষেধাজ্ঞা দূর করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য এল।